এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিস্তারিত উপায়
-
Update Time :
সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
৭৬৯
Time View
১. রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন
- প্রধানমন্ত্রীর পদে দুইবারের বেশি ধারাবাহিকভাবে না থাকার নিয়ম দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে নতুন রক্ত সঞ্চালনের সুযোগ করে দেয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালায়ও একই দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। একজন ব্যক্তি একই প্রতিষ্ঠানে টানা দুইবারের বেশি সভাপতি হতে পারবেন না। অর্থাৎ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধিপত্য ভাঙতে এবং নেতৃত্বে বৈচিত্র্য আনতে এ পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।
২. সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা
- আগে অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী বা অর্থবিত্তশালী ব্যক্তিরা কমিটির সভাপতি হয়ে যেতেন, যদিও তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
- এখন স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—সভাপতির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হবে ৪ বছরের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি।
- এর ফলে কমিটির নেতৃত্বে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং বোধসম্পন্ন মানুষ আসার সম্ভাবনা বাড়বে।
৩. সভাপতির সীমাবদ্ধতা
- টানা দুই মেয়াদের বেশি নয়—অর্থাৎ পরপর দুইবার দায়িত্ব পালন করার পর তাঁকে বিরতি নিতে হবে।
- তবে এক মেয়াদ বিরতির পর পুনরায় আসা যাবে। এভাবে একই ব্যক্তি আজীবন ক্ষমতাসীন হয়ে থাকতে পারবেন না।
- একজন ব্যক্তি একটির বেশি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না।
- সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হওয়া যাবে, তবে একই সঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া যাবে না।
৪. ম্যানেজিং কমিটির গঠনভিত্তিক কাঠামো
এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কে কোন স্তরে কতজন প্রতিনিধি হবেন। সহজ করে বললে:
(ক) শিক্ষক প্রতিনিধি
- উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান → ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধি।
- যদি মাধ্যমিক স্তর যুক্ত থাকে → ১ জন উচ্চমাধ্যমিক, ১ জন মাধ্যমিক।
- যদি প্রাথমিক স্তরও যুক্ত থাকে → মোট ৩ জন (উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক থেকে একজন করে)।
- মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান → ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধি।
- যদি প্রাথমিক স্তর যুক্ত থাকে → ১ জন মাধ্যমিক, ১ জন প্রাথমিক।
- নিম্নমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান → ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধি।
- যদি প্রাথমিক স্তর যুক্ত থাকে → ১ জন নিম্নমাধ্যমিক, ১ জন প্রাথমিক।
(খ) সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি
- সব স্তরেই যদি মহিলা শিক্ষক থাকেন, তবে একজন নির্বাচিত হবেন।
- একাধিক স্তর থাকলে → সব স্তরের মহিলা শিক্ষকের ভোটে নির্বাচন হবে।
(গ) অভিভাবক প্রতিনিধি
- উচ্চমাধ্যমিক স্তর → ৪ জন অভিভাবক প্রতিনিধি।
- যদি মাধ্যমিক স্তরও থাকে → ২ জন উচ্চমাধ্যমিক, ২ জন মাধ্যমিক।
- যদি প্রাথমিক স্তরও যুক্ত থাকে → মোট ৫ জন (২ উচ্চমাধ্যমিক + ২ মাধ্যমিক + ১ প্রাথমিক)।
- মাধ্যমিক স্তর → ৪ জন অভিভাবক প্রতিনিধি।
- যদি প্রাথমিক স্তর যুক্ত থাকে → ২ জন মাধ্যমিক + ২ জন প্রাথমিক।
- নিম্নমাধ্যমিক স্তর → ৪ জন অভিভাবক প্রতিনিধি।
- যদি প্রাথমিক স্তর যুক্ত থাকে → ২ জন নিম্নমাধ্যমিক + ২ জন প্রাথমিক।
(ঘ) সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি
- সব স্তরেই একজন মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
- একাধিক স্তর থাকলে → সব স্তরের মহিলা অভিভাবকের ভোটে নির্বাচন হবে।
(ঙ) প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধি
- প্রতিষ্ঠাতা থাকলে তিনি অথবা তাঁদের মধ্য থেকে ভোটে একজন।
৫. সভাপতি মনোনয়নের প্রক্রিয়া
- প্রতিষ্ঠান প্রধানকে প্রথমে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
- এরপর সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ও জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।
- প্রার্থী হতে পারবেন:
- সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা।
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক।
- সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।
- কারিগরি বিষয়ে (প্রকৌশল, কৃষি, এমবিবিএস ইত্যাদি) স্নাতক ডিগ্রিধারী সরকারি কর্মকর্তা।
দ্রষ্টব্য: প্রস্তাবিত তিনজনের নামের তালিকায় কোনো অগ্রাধিকার থাকবে না।
৬. সম্ভাব্য প্রভাব
- শিক্ষার মানোন্নয়ন → সভাপতি যোগ্য, শিক্ষিত ও জবাবদিহিতাপূর্ণ হবেন।
- স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা → কমিটি হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত, ফলে কর্তৃত্ববাদী প্রভাব কমবে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য → একই ব্যক্তি অনন্তকাল ধরে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না।
- রাজনৈতিক প্রভাব সীমিতকরণ → যোগ্যতা নির্ধারণের ফলে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হলেও অযোগ্য ব্যক্তি আর সভাপতি হতে পারবেন না।
Post Views: 687
Please Share This Post in Your Social Media
আমার খবর
Leave a Reply