বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত সব শিক্ষককে বদলির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমানের দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা ইনডেক্সধারী সকল শিক্ষককে বদলির আওতায় আনার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালার সংশোধন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ইনডেক্সধারী সব শিক্ষককে বদলির আওতায় আনতে অধিকাংশ কর্মকর্তার ইতিবাচক মতামত রয়েছে। তবে আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য সর্বজনীন বদলির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের তথ্য সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই সম্ভাব্য জটিলতার কারণেই বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বদলির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য। কারণ তারা সফটওয়্যারের মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়োগ পেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তাই তাদের কষ্ট লাঘবে দ্রুত বদলি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের একাংশ বদলি নিয়ে আদালতে রিট করেন। যদি কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়, তাহলে বদলি কার্যকর হতে অনেক সময় লেগে যাবে। তাই জটিলতা এড়ানোর জন্য সর্বজনীন বদলি ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবা হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সর্বজনীন বদলি চালু করতে হলে প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার যথাসময়ে বদলি কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করবে। সর্বজনীন বদলি কার্যকর করতে বিদ্যমান নীতিমালায় পরিবর্তন আনাও অপরিহার্য, সে লক্ষ্যে নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। অতীতে শিক্ষকরা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে আপত্তি ওঠায় সম্প্রতি সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরপরই দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সর্বজনীন বদলি নিয়ে আদালতে রিট হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply