এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে গঠিত হয় জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট যাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল এমপিওভুক্ত শিক্ষা ও শিক্ষকের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো। এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষকেরা আজীবন এক অবহেলিত ব্যবস্থা ও পেশা। এদেশের সকল সময় এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে হয় তামাশা ও ধোকাবাজি। এই সকল অবস্থার দূরীকরণে একনিষ্ঠ ভাব কাজ করে যাচ্ছে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
গত ১৩ আগষ্ট প্রেসক্লাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের নিমিত্তে দায়িত্বরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণ যে সমাবেশে স্বপ্রোণোদিতভাবে যে হাজার হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ উপস্থিত হয় তাদের একটাই দাবী ছিল জাতীয়করণ। সেই সমাবেশ চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে একদল শিক্ষক প্রতিনিধিদল শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে দেখা করে। সেখানে সেই প্রতিনিধি দলের সাথে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয় শিক্ষকদের দাবীগুলো শুনে তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষকদের সকল দাবীর সাথে একমত পোষণ করে বলেন যে, আপনাদের সকল দাবীগুলোই অত্যন্ত যৌক্তিক কিন্তু এ স্বল্পসময়ের সরকারের পক্ষে জাতীয়করণের মতো বিশাল একটি দাবী পূরণ করা আদৌ সম্ভবপর কিনা সেটাও তো আপনাদের ভেবে দেখতে হবে। শিক্ষ উপদেষ্টা মহোদয়ের সেই আবেগমিশ্রিত কথা শুনে শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সদস্যগণ বলেন তাহলে এই মূহুর্তে আমাদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা যেগুলো পূর্বের বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টার দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বৃদ্ধি কার্যকর করার ব্যবস্থা করুন। তিনি তখন বলেন আপনাদের আন্দোলনে প্রেক্ষিতে আমরা ইতিমধ্যে সবগুলো ভাতা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। তখন শিক্ষক প্রতিনিধিগণ বলেন যে, আমরা বাড়িভাড়া দ্বিগুণ অথ্যাৎ ১০০০ টাকার স্থলে ২০০০ টাকা এটা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয় চিকিৎসা ভাতা যে পরিমাণ আপনারা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন সেটা আমরা মেনে নিব যদি বাড়িভাড়া শতাংশ হারে ২০শতাংশ প্রদান করেন। শিক্ষা উপদেষ্টা তাৎক্ষণিক ভাবে বলেন যে, আমি আপনাদের দাবির সাথে নীতিগত ভাবে একমত। আপনারা একটি কাজ করেন খুব দ্রুততর সময়ের মধ্যে আমাদের নিকট একটি হিসাব প্রদান করেন যে, বাড়িভাড়া ২০% দিতে কি পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা দেওয়া নির্দেশ মোতাবেক গত ২০ তারিখে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের পক্ষ হতে বাড়িভাড়া ২০% ও চিকিৎসা ভাতা ১০০০ টাকা করে দিতে গেলে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন হয় তার একটি হিসাব মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়।
সেই দাখিলকৃত হিসাবের খবর অথ্যাৎ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির আপডেট নিউজ জানতে আজ সোমবার ২৫/০৮/২৫ তারিখে জাতীয়করণ প্রত্যাশি জোটের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তারা এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি জানতে পারেন নি। অর্থাৎ কার্যক্রম যে অবস্থায় ছিল বর্তমানে সেই অবস্থায় রয়েছে। তবে তারা সেখানে গিয়ে অন্য একটি বিষয়ের সুত্রপাত হয়েছে। বা এভাবে বলতে পারেন নতুন একটি দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে তা হলো সচিবালয়ে গিয়ে তারা জাতীয় পে কমিশনের সদস্যদের সাথে দেখা করেছেন এবং তাদেরকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্ন বৈষম্যগুলো অবহিত করেন এবং তাদের নিকট এই বৈষম্যগুলো নিরসনের কল্পে সুপারিশ প্রদানের অনুরোধ জানান।
পরিশেষে যে কথাটি বলব তা হল আপাতত আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা ও আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখের কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্নক একাত্নতা প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আমরা গত ১৩ তারিখে যেভাবে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছিলাম ঠিক একইভাবে প্রয়োজনে আবার মাঠে নামার প্রয়োজন হলে পিছপা হওয়া যাবে না। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply