স্কুল-কলেজে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে তৈরি সফটওয়্যারে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই সফটওয়্যারের মাধ্যমেই বদলি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সর্বজনীন বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত রুল জারি করায় নির্ধারিত সময়ে বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন মাউশি কর্মকর্তারা।
মাউশির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারের ট্রায়াল সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। এ ট্রায়ালে ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পরীক্ষা করা হয়। তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি এবং সফটওয়্যারে কোনো কারিগরি ত্রুটিও ধরা পড়েনি। ফলে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে মাউশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, বদলির সফটওয়্যারে কোনো সমস্যা নেই। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নভেম্বর থেকে বদলি কার্যক্রম শুরু করার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে কবে থেকে বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা যাবে তা নির্ভর করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ওপর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা কেন প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বজনীন বদলি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে রিট হয়েছে। সেই রিটের প্রেক্ষিতে আদালত একটি রুল জারি করেছে। এই রুলের জবাব দিতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। রুলের জবাব দেওয়ার পর বদলি কার্যক্রম চালু করা যাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সেই নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে এনটিআরসিএ। আগে শিক্ষকরা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রশাসনিক মহলের বিরোধিতার কারণে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে বদলি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে। চলতি বছর থেকেই এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি চালুর কথা থাকলেও সর্বজনীন বদলি নিয়ে আদালতে রিট হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply