আগস্ট মাসের বেতন-ভাতার বিল নির্ধারিত সময়ে সাবমিট করেননি দেশের বেসরকারি ১৬২টি স্কুল ও কলেজের প্রধান। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা নির্ধারিত সময়ে পেতে বিল জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের প্রোগ্রামার-৫ মো. জহির উদ্দিন বলেন, “অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও শিক্ষক-কর্মচারীদের আগস্ট মাসের বেতন-ভাতার বিল সাবমিট করেনি। আমরা নিয়মিতভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করছি এবং দ্রুত বিল পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, এ অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে মোট ১৯ হাজার ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে শনিবার (২৩ আগস্ট) পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬৩৮টি প্রতিষ্ঠান আগস্ট মাসের বেতন বিল জমা দিয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও দেশের বিভিন্ন জেলার ১৬২টি স্কুল ও কলেজ প্রধান বেতন বিল জমা দেননি। এর ফলে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি কোষাগার থেকে আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্টের বিল জমা না দেওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা হচ্ছে। অনেকেই শিগগিরই বিল জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সময়মতো তথ্য পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ বিল জমা দিতে বিলম্ব হলে আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা প্রদানে দেরি হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, “আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে আগস্ট মাসের বেতন সংক্রান্ত তথ্য মাউশির প্রশাসন শাখায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানপ্রধানের গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব তথ্য পাঠানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা যদি সময়মতো বিল সাবমিট না করেন, তাহলে আগস্ট মাসের বেতনও বিলম্বে পৌঁছাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে।”
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেছেন, বেতন প্রদানে দেরি হলে তারা চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে মাসের শুরুতে বাড়ি ভাড়া, ঋণ পরিশোধ, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে তারা তীব্র সংকটে পড়েন। তারা দাবি জানিয়েছেন—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রতিমাসের বেতন যেন পরবর্তী মাসের শুরুর দিকেই নিয়মিতভাবে প্রদান করা হয়।
এই বিলম্ব শুধু শিক্ষক-কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেই প্রভাবিত করছে না, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply