শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। “শিক্ষক সমাজকে আর অবহেলা নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে” – এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলরুমে। সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, শিক্ষক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া। তিনি বলেন, পতিত শেখ হাসিনার সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং দীর্ঘ ১৫ বছর শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং নানাভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি জাতিকে উন্নত করতে হলে প্রথমেই শিক্ষক সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের সহযোগিতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ শিক্ষকদের সব দাবি পূরণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীন ব্যাপারী, যুগ্ম-মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান, এম এ তুহিন, আলহাজ্ব আবদুল মতিন মিয়া (আহ্বায়ক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, পটুয়াখালী জেলা), শবনম মুস্তারী পিরু (আহ্বায়ক, সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি) এবং জনাব মনজুরুল আহসান (সদস্য সচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, পটুয়াখালী জেলা)।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, দেশের শিক্ষকরা আজ নানা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া রয়েছে, পদোন্নতি ঝুলে আছে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজ পর্যায়ে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাণিজ্যসহ দুর্নীতির নানা দিক তিনি তুলে ধরেন।
সম্মেলনে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয় তার মধ্যে ছিল—
বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য শিক্ষক সমাজকে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হতে হবে।
সম্মেলন শেষে আয়োজকরা ঘোষণা দেন, এ সম্মেলন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের নতুন জাগরণের প্রতীক। উপস্থিত সকলে একবাক্যে উচ্চারণ করেন— “শিক্ষকের সম্মান জাতির সম্মান, আর তা রক্ষায় আমরা একতাবদ্ধ।”
Leave a Reply