মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের স্মরণে প্রবন্ধসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। রবিবার (১০ আগস্ট) তারিখে প্রকাশিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানো সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।
চিঠি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় তাদের প্রবন্ধ ও তথ্য পাঠাতে হবে। এ নির্দেশনা দেশের সব আঞ্চলিক পরিচালক এবং বিদ্যালয় পরিদর্শন শাখার আঞ্চলিক উপপরিচালকের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে মূল প্রেক্ষাপট হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৭ আগস্টের জারি করা নির্দেশনা, যেখানে ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪’-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছিল।
প্রেরণযোগ্য তথ্যের মধ্যে মূলত থাকবে—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বা আহত হওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে প্রবন্ধ, যা ঐতিহাসিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা, অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা এবং তৎকালীন পরিস্থিতি তুলে ধরবে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব প্রবন্ধ বা তথ্যের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন, তৎকালীন তোলা ছবি, সরকারি গেজেটের কপি বা যেকোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে। ই-মেইলের ক্ষেত্রে অবশ্যই এসব প্রমাণের স্ক্যান কপি যুক্ত করতে হবে, যাতে প্রামাণিকতা বজায় থাকে।
এছাড়া, প্রেরিত প্রবন্ধ বা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি নথির সঙ্গে একটি যৌথ প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এই প্রত্যয়নপত্রে তিনজনের স্বাক্ষর থাকতে হবে—(১) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, (২) প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সিনিয়র শিক্ষক, এবং (৩) প্রবন্ধ লেখার সঙ্গে জড়িত কমিটির সভাপতি। এই স্বাক্ষরসমূহ নথির প্রামাণিকতা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—প্রবন্ধের সফটকপি অবশ্যই নিকস বাংলা ১৪ ফন্টে টাইপ করে পাঠাতে হবে। প্রেরণযোগ্য ই-মেইল ঠিকানা হলো apa@moedu.gov.bd এবং একই সঙ্গে ad-admin@dshe.gov.bd ঠিকানায় সিসি করতে হবে, যাতে তথ্য উভয় দপ্তরে পৌঁছায়। এ নির্দেশনার আওতায় সব আঞ্চলিক পরিচালক ও বিদ্যালয় পরিদর্শন শাখার আঞ্চলিক উপপরিচালককে তাদের দায়িত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও প্রেরণের বিষয়টি তদারকি করতে বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দলিলপত্র সংরক্ষণে আগ্রহী, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ও শহীদ-আহতের স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিহাসচর্চা এবং জাতীয় চেতনা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply