বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশে টানা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট নির্ধারিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের জাতীয়করণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও জাতীয়করণ আন্দোলনের নেতারা এখনো কর্মসূচি স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তারা জানিয়েছেন, ধর্মঘট চলাকালীন বাস পাওয়া গেলে নির্ধারিত তারিখে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, আর বাস সংকট দেখা দিলে তা স্থগিত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জোটের পরবর্তী সভায় বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে আশাবাদী। যদিও ১২ আগস্ট থেকে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে পুরো দেশ প্রায় অচল হয়ে পড়বে। তবে আমরা আশা করছি, ধর্মঘট শুরুর আগেই অন্তবর্তী সরকার উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবেন এবং আমাদের সমাবেশও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।” জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আগামী বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বড় আকারের সমাবেশ করবে শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে আটজন করে সমন্বয়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সমন্বয়করা জেলা পর্যায়ে, আর জেলা সমন্বয়করা উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয়ক নিযুক্ত করছেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আগেভাগেই একাধিক বাস রিজার্ভ করা হচ্ছে, এমনকি কোনো কোনো উপজেলা থেকে একাধিক বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
২০১৮ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ২০ দিনের অবস্থান ও অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার শিক্ষকদের জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তা কার্যকরও হয়। সে সময় সরকার শিক্ষা জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। পরবর্তীতে সরকার পতনের পর অন্তবর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈষম্য নিরসনে আলোচনা হয় এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরবর্তী বাজেটে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরু হলেও এখনো সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
এ অবস্থায় শিক্ষকরা পুনরায় রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট অবস্থান, ১৩ আগস্টের সমাবেশে সরকারের পক্ষ থেকে যদি সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসে, তাহলে পরবর্তী সময়ে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন। এই সমাবেশ তাই শুধু একটি দাবিদাওয়া কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের দিকনির্দেশক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply