দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে আরও প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও ডিআইএ প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক জাল সনদের তথ্য পেয়েছিল।
ডিআইএর একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে তারা দেশের ২ হাজার ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে। এসব পরিদর্শনের ফলে নানা ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে জাল সনদধারী শিক্ষক, জমি দখলসহ বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। এসব বিষয় সংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও যুক্ত করেছে ডিআইএ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আগের কঠোর পদক্ষেপের কারণে অনিয়ম কিছুটা কমেছে। এই প্রতিবেদনগুলোতে যেসব দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে, তা ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, “গত ছয় মাসে আমাদের একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে। এসব পরিদর্শনের ভিত্তিতে কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা সরকারকে জানানো হয়েছে। সরকার এসব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
সাড়ে তিন শতাধিক জাল সনদধারীর তথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পূর্বে জাল সনদধারীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তবে বর্তমানে এই সংখ্যা অনেক কমেছে। সাম্প্রতিক পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিক্ষকের সনদে সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে উল্লেখ করেছি।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় জমি দানকারীরা দান করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেননি। তাদের মৃত্যুর পর তাদের উত্তরাধিকারীরা স্কুলের জমি নিজেদের দাবি করে দখল করে নিচ্ছেন। এসব ঘটনায় অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
গত ২০ জুলাই পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর দেশের মোট ২ হাজার ৭৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বিষয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে প্রেরিত ২৭৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত প্রতিবেদন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের (www.dia.gov.bd) নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে।”
প্রতিবেদনগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর), সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ডি-নথিতে, প্রয়োজনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবরে ই-মেইলে, সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসের ডি-নথিতে, ব্যবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডির সভাপতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিজ নিজ ই-মেইলে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকাশিত তালিকায় থাকা সত্ত্বেও ই-মেইলে প্রতিবেদন না পেয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে ডি-নথি সিস্টেম থেকে ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে পারবে।
এছাড়া জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে, প্রতিষ্ঠানটি তার লেটার হেড প্যাডে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর আবেদন করে সেই আবেদনের অনুলিপি director@dia.gov.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে। ই-মেইল প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো হবে।
প্রয়োজনে টেলিফোন নম্বর ০২৪১০৫৩৩৪৭-এ যোগাযোগ করা যাবে। প্রতিবেদনের জন্য সশরীরে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
Leave a Reply