বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের পেশা চিরকালেরই এক অবহেলিত ও দূর্দশাগ্রস্থ এক পেশা। এই পেশার যত সমস্যা তা যদি কয়েক পৃষ্ঠা লেখা যায় তাহলেও তা শেষ হবে বলে মনে হয় না। যাই হোক এখন আসি বর্তমানে যে সমস্যা নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী সমাজ বিভিন্ন ভাবে হতাশা ও বিভ্রান্ত সেই বিষয়ে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্থ তা হলো বিগত অর্থ বছরে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টার ঘোষণা মতে এই নতুন অর্থ বছর হতে শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি হওয়ার কথা। এখানে বলে রাখা ভাল যা তা হলো এই সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ন্যায় অন্যান্য পেশাজীবিদেরও বেতন ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। যা এই নতুন অর্থ বছরের জুলাই হতে কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায় কেন এমন দুইনীতি গ্রহণ করা হচ্ছে তা একমাত্র এই সরকারের নীতি নির্ধারকেরাই বলতে পারবে।
এখন সবচেয়ে হতাশার জায়গায় তৈরি হয়েছে যে জায়গায় তা হলো গত দুই একদিন থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এক দালাল মার্কা সংগঠনের পক্ষ হতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে দাবী করছে যে, আমাদের বাড়িভাড়া ১০০০ ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০টাকা বৃদ্ধি চুড়ান্ত করা হয়েছে। যে বিষয়টি অবশ্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিত কারণ যে মূহুর্তে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে যখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ একটি বৃহৎ সমাবেশ ঘটানোর কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে। এই সমাবেশকে ভুন্ডল করতে এক স্বার্থান্বেষী মহল উঠে পড়ে লেগেছে। যাদের কাজ হলো আমলাদের চামচামি করা।
এই মিথ্যা প্রচারণা চালনো উপলেক্ষ্যে খোঁজ নিয়ে যে বিষয়টি জানা গিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তা হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার যে দাবী রয়েছে তা আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে কত টাকা বাড়বে, কি পরিমাণ বাড়বে এই বিষয়ে এখনও কিছুই জানা যায় নি। যে বিষয়গুলো বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে একেবারে উদ্দেশ্য প্রনোদিত। যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলা আগামী ১৩ তারিখের সমাবেশ নষ্ট করার চক্রান্ত। তাই আপনাদের সকলের উদ্দেশ্যে যে কথাটা নতুন করে আবারও বলতে চাই তা হলো এই সকল প্রচারণাই চোখ ও কান না দিয়ে আপনারা আপানদের দাবী আদায়ের জন্য প্রেসার সৃষ্টি করার জন্য আগামী আন্দোলনে স্বশরীরে হাজির হয়ে সমাবেশকে সফল করার চেষ্টা করুন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে এখনও কোন অংক স্থির হয়নি তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে অতি দ্রুত বিষয়টি স্থির করা হবে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (অর্থ ও ক্রয় উইং) প্রফেসর গোপীনাথ পাল কোন তথ্য দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে এখনও আমার কাছে অথেন্টিক (নির্ভরযোগ্য) তথ্য নেই। অথেন্টিক তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে কোন কথা বলতে পারি না। এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং) প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
দিন ধরে ছিলো শিক্ষকদের মধ্যে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা নিয়ে নানা ধরনের অসন্তোষ বিদ্যমান এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আশ্বাস দেওয়া হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষকরা এ নিয়ে ব্যাপক মনোক্ষুণ্ণ ছিলেন।
মাউশি সূত্র জানায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান আছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই এই বিষয়ে ঘোষণা আসবে।
এদিকে সম্প্রতি শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করে সরকার। বাড়তি বেতনসহ সেই টাকা আগামী সোমবার (০৪ আগস্ট) অথবা মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে দেয়া হবে বলে রূপালী বাংলাদেশকে জানিয়েছেন মাউশি পরিচালক (অর্থ ও ক্রয় উইং) প্রফেসর গোপীনাথ পাল।
Leave a Reply