এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এপ্রিল ২০২৫ মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদানের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়ত আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে হয়ে যাবে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পরবর্তী আরও কিছু কার্যক্রম বাঁকি থাকে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বেতনের ফাইল যাবে প্রধান হিসাব রক্ষকের অফিসে সেখান হতে অনুমোদন নিতে হবে। তারপর ফাইল যাবে বাংলাদেশের ব্যাংকে সেখান থেকে অর্থ ছাড় এর অনুমতি সাপেক্ষে আইবাস++ এর নিকট যাবে। আইবাস++ তারপর শিক্ষক কর্মচারীদের ব্যাংক হিসেবে বেতন পৌছানোর ব্যবস্থা করবে।
এই সকল আনাযাঙ্গিক কাজ কর্ম সারতে সারতে কমপক্ষে আরও এক দুই দিন সময় তো অবশ্যই লাগবে। সেক্ষেত্রে আইবাস++ এর নিকট বেতন প্রদানের চিঠি যেতে যেতে মঙ্গলবার অবধি সময় লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষক কর্মচারীরা হয়তবা আগামী মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে এপ্রিলের বেতন পেয়ে যাবেন আশা রাখি।
সর্বশেষ আশা ও উদ্বেগের বিষয় হলো এই যে, এই ভাবে আর কতদিন জোড়াতালি দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জীবন চলবে। আসলে কি এভাবে জীবন চালানো যায়। প্রতিমাস শেষে এভাবে অহেতুক হয়রানি কি ভাল লাগে। সামাজিক ভাবেও তো কাউকে বলা যায় না যে, আমাদের বেতন এখনও আসে নি। মানুষ বলে তোমাদের বেতনের সমস্যা কি প্রতিমাসেই হয়।
এপ্রিলের বেতনের সমস্যা যেভাবেই হোক সমাধান হতে চলেছে হয়তবা আর দুই একদিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর আমরা যদি ভুলে যাই মে মাসও কিন্তু শেষ হতে চলেছে, এখনই যদি মে মাসের বেতনে প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা না যায় তাহলে সময় মতো মে মাসের বেতন পাওয়া যাবে না। আর মে মাসের বেতন যদি সময়মতো না পাওয়া যায় তাহলে কিভাবে শিক্ষক কর্মচারীরা ঈদ পাড়ি দিবে তা কি একবার ভেবেছেন।
পাশাপাশি রয়েছে উৎসব ভাতা প্রদানের বিষয়। মাউশি যদি এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ কিংবা আগামী শনিবারের মধ্যে মে মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু না করে তাহলে ঈদের পূর্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা বিশাল বিপদের মুখে পড়ে যাবে। অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারীরা কোরবানী পশু ক্রয় করতে পারবে না।
তাই শেষ কথা যা বলতে চাই তা হলো দয়া করে এপ্রিলের বেতন প্রদানের কার্যক্রম শেষ করেই মে মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করুন।
বিগত দিনগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন অ্যানালগ পদ্ধতিতে দেওয়া হত সেক্ষেত্রে বেতন প্রদানের এই ধরনের জটিলতা না হয় কিছুটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এখন বেতন প্রদানের জটিলতা নিরসনের জন্যই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ইএফটিতে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তারপরও যদি জটিলতা না কমে বেড়ে যায় তাহলে কিন্তু মাউশির দায়বদ্ধতা ও নিবেদন নিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্নের উদ্রেক হবে। হবে মাউশির প্রতি শিক্ষক কর্মচারীদের অবিশ্বাস।
Leave a Reply