আজ হতে সেই ২১ বছর পূর্বে কোন একদিন এদেশের সরকারের প্রয়াত শিক্ষা মন্ত্রী শিক্ষকদের আন্দোলনের চাপে ঘোষণা করেছিলেন যে এখন হতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রতি বছর ৫০% করে উৎসব ভাতা পাবেন এবং কর্মচারীরা পাবেন ১০০% তবে তা দুই ঈদ মিলে। অর্থাৎ শুরু থেকেই ছিল চাতুরতা শুরু থেকেই ছিল বৈষম্য। সেই ২০০৪ সাল অদ্যাবধি আজ পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক কিছুতেই উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও কোন উন্নতির ছোয়া লাগেনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতার ভাগ্যে। বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ঈদুল আজহার আগে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের নীতিনির্ধারকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) সাইয়েদ জেড মোরশেদ আলী বলেন, সরকার উৎসব ভাতা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কতটুকু বাড়বে, সে বিষয় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এপ্রিল অথবা মে মাসের প্রথমার্ধে প্রজ্ঞাপন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছরের অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষকদের দেওয়া হবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। দুই ঈদে (অথবা পূজায়) ২৫ শতাংশ করে ভাগ করে তা দেওয়া হবে। সেই থেকে প্রতি ঈদে শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। কর্মচারীদের জন্য ওই সভায় শতভাগ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দুই ঈদে ৫০ শতাংশ করে তা ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষকরা জানান, ’৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতনের ৮০ ভাগ সরকার থেকে দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগ সরকার তা ৯০ শতাংশে উন্নীত করে। ২০০৫ সালে চারদলীয় জোট সরকার ৯৫ শতাংশ করে। পরের বাজেটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তা শতভাগে নিয়ে যায়। দেখা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন স্কেল ধাপে ধাপে শতভাগে উন্নীত হলেও উৎসব ভাতা বাড়েনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বছরের ৫ মার্চ উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চলে যাওরার আগে শিক্ষকদের উৎসব, বিনোদন, বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে সই করেন। এরপর এ নিয়ে কাজ শুরু করে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেছিলেন, ‘কয়েকমাস আগেই আমি সবাইকে আশ্বাস দিয়েছিলাম, সাধ্যমত এ বছর এবং আগামী বছরের বাজেটে যতটুকু অর্থ সংকুলন করা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে আমরা যতদূর পারি চেষ্টা করব দাবিগুলো মেটাতে।’
আমাদের সকল সরকার শুধু কথায় কথায় তাদের সাধ্যমতো কথা উল্লেখ করে সাধারণ মানুষের সফটকর্ণার পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের সাধ্য যদি না থাকে তাহলে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো কেন বছরের পর বছর কেন অযৌক্তিক ভাবে বয়ে বেড়াচ্ছে। গত কাল সেসিপ প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসকল বিষয়ে সরকারের সাধ্যের সমস্যা হয় না। সমস্যা তখন হয় যখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা কোন যৌক্তিক দাবি নিয়ে সরকারের কাছে হাজির হয়।
আরও পড়ুন……..শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (সেসিপ) এর মেয়াদ বৃদ্ধি।
তিনি আরো বলেছিলেন, ‘কিন্তু, ১৫/২০ বছরের বঞ্চনা ১/২ বছরের বাজেট দিয়ে তো মেটানো যায় না। এটা বোঝানো খুব কঠিন। আজকেই বেসরকারি বেতন সরকারি বেতনের সমান করে দিতে হবে- এটা ন্যায্য দাবি বুঝলাম, কিন্তু এক বছরের বাজেট দিয়ে কীভাবে ১৫ বছরের বৈষম্য ঠিক করা যায়? কিন্তু শুরুটা করা দরকার। সেই শুরুটা আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, ‘তাদের (এমপিওভুক্ত শিক্ষক) উৎসব ভাতা, বিনোদন ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা- এ বছরের ঈদুল আজহা থেকে শুরু করে আগামী বছরের বাজেট থেকে অন্তত কিছু বাড়াতে পারবো, এখানেও আমি ঘোষণা দিচ্ছি না কত বাড়াবো। আমি জানি সেটুকু বাজেটের মধ্যে এ বছর এবং আগামী বছরের বাজেটের মধ্যে প্রভিশন রাখা হচ্ছে।’
মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে জানায়, গত ঈদুল ফিতরে সারাদেশের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলে প্রায় ২৪০ কোটি টাকার উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শুধু স্কুল ও কলেজ ২০ হাজার ৫৬৭টি। এর সঙ্গে মার্চ/২০২৫ মাসের বেতন হিসেবে দেওয়া হয় ৮৮৩ কোটি ৫১ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ টাকা।
জানা গেছে, ঈদ উৎসব ভাতা বর্তমানের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ আর কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ বোনাস পেতে পারেন। তবে সেটাও এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রবীন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, এমপিও শিক্ষকরা মোটেই উৎসব ভাতা পেতেন না। আমরা নাছোড়বান্দা হয়েছিলাম যেটুকুই হোকে শুরু করতে হবে। অতপর বিএনপির শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক ও প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজী হলেন। আমরা আশা করেছিলাম শতভাগ এমপিওর মতো ধাপে ধাপে উৎসব ভাতাও বাড়বে কিন্তু গত ১৮ বছরে তা হয়নি। ভবিষ্যতে এ চাওয়া কতটুকু পুরণ হয় তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমানে যে উৎসব ভাতা ১০০% হচ্ছে না তা নিশ্চিত।
Leave a Reply