সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয় চলাকালে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিংবা মাসিক বেতন উত্তোলনের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে পারবেন না। পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার এমন প্রবণতা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের ছুটির পর এটিএম, ডেবিট কার্ড বা অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং মাধ্যমের মাধ্যমে বেতন উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলার সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. এম. শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালেই বেতন উত্তোলনের জন্য বাইরে চলে যান। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একই সময়ে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক একসঙ্গে ব্যাংকে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যত ব্যাহত হয়। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে বেতন তোলার অজুহাতে কিছু শিক্ষক দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করেন এবং ব্যক্তিগত কাজ বা আড্ডায় সময় কাটান। ফলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের এমন অনিয়ম বন্ধ করা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব শিক্ষকের এটিএম বা ডেবিট কার্ড নেই, তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সুবিধা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের ছুটির পর বেতন উত্তোলন করতে হবে। এতে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয় ত্যাগের প্রয়োজন হবে না এবং শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হবে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো শিক্ষক যাতে পাঠদান চলাকালে ব্যক্তিগত কাজ বা বেতন উত্তোলনের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় ত্যাগ না করেন, তা নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ের কার্যদিবস ও পাঠদান চলাকালে মাসিক বেতন উত্তোলন কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের বাইরে চলে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক একই সময়ে বাইরে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমানে অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এটিএম, ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তাই বিদ্যালয় চলাকালে ব্যাংকে গিয়ে বেতন উত্তোলনের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে যেমন সময় সাশ্রয় হবে, তেমনি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
Leave a Reply