দেশের সব শিক্ষকের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। কারণ সরকারের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই সরকার দেশের সকল শিক্ষকের বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে কাজ করছে। তবে প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
তিনি বলেন, সরকার মনে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, অথচ দীর্ঘদিন ধরেই তারা নানা দিক থেকে অবহেলিত। এজন্য সরকার এখন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী করতেও কাজ চলছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলে শিক্ষকদের ভাগ্যেরও পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এখনো সমাজে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা নেই। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের হাতে ট্যাবলেট কম্পিউটার তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও অংশ নিতে সক্ষম হবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। গত তিন মাস ধরে প্রতিদিনই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে হলে তরুণ-তরুণীদের আরও দক্ষ, কর্মক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেই কাজের ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ কর্মদক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বেকার হয়ে পড়ছেন। কারণ তারা যে শিল্প-কারখানায় কাজ করতেন, সেগুলোর অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের চিনিকল, পাটকল এবং পাটজাত শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারখানা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঠিক কবে থেকে বৃদ্ধি করা হবে কিংবা কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
Leave a Reply