এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন বিল সাবমিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল সাবমিট সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করার সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ বিল জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে সমস্যা হলো এখন অবধি মে মাসের বিল সাবমিট অপশনের কারিগরি ত্রুটির কোন সমাধান হয়নি। তাহলে আগামীকালের মধ্যে কিভাবে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের বিল সাবমিট করবে এ ব্যাপারে মাউশির ইআইএমএসসেলের বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোন কথা বলতে রাজি হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন ভাতা দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রদানের লক্ষ্যে মাউশির পক্ষ হতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সরকার বা শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় যদি এখন দ্রুততর সময়ের মধ্যে বেতন অনুমোদন, অর্থ ছাড় সহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে এবং সর্বোপরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ ঈদুল আযহার পূর্বে তাদের মে মাসের বেতন ভাতা উত্তোলন করুক তাহলে অবশ্যই সম্ভব। এ বিষয়ে মাউশির পক্ষ হতে কোন প্রকার গাফিলতি নাই। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা সহ অন্যান্য পাওনাদি দ্রুত ছাড়ের লক্ষ্যে এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বিল সাবমিট শেষ হওয়ার পর যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভাতা ছাড় করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে বেতন-ভাতা ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে বেতন ও ভাতার অর্থ পাঠানো হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন ৩ লাখ ৭৩৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন ৮৭ হাজার ৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
এরও আগে গত ২২ এপ্রিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিল সাবমিটের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে সময় ২৪ এপ্রিলের মধ্যে বিল জমা দিতে বলা হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিল সাবমিট কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

Leave a Reply