বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত (এমসিকিউ) ও মৌখিক পরীক্ষায় আলাদাভাবে পাস করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম শতভাগ অটোমেশন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনঃমূল্যায়নের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর অধীনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের লিখিত (এমসিকিউ) ও মৌখিক—উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ কোনো প্রার্থী একটি পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেলেও অন্য পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বরের কম পেলে তাকে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের মোট অর্জিত নম্বরের ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এরপর প্রার্থীদের পছন্দক্রম এবং মেধাক্রম অনুসারে শূন্যপদের বিপরীতে সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।
জানা গেছে, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আওতায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম প্রস্তুত করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম অনুযায়ী টেলিটক লিমিটেডের সফটওয়্যারের মাধ্যমে শতভাগ অটোমেশন পদ্ধতিতে সুপারিশ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে, বিজ্ঞপ্তির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে পরীক্ষার উত্তরপত্রের গোপনীয়তা ও পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এমসিকিউ পরীক্ষার উত্তরপত্র এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র গোপনীয় দলিল হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। কোনো প্রার্থী চাইলে তার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ, পুনঃমূল্যায়ন কিংবা পুনঃপরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন না। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিকেও সরবরাহ করা হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আগামী ১০ মে থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সেই ভাইভা আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ১৪টি শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে দুই শিফটে ভাইভা নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথম শিফট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রতিটি বোর্ডে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন প্রার্থীর ভাইভা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন দুই শিফটে ভাইভা কার্যক্রম পরিচালিত হলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আনুমানিক দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
এর আগে এনটিআরসিএ’র ব্যবস্থাপনায় গত ১৮ এপ্রিল ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ এর এমসিকিউ পরীক্ষা ঢাকার ৯টি কেন্দ্রে চারটি পৃথক স্লটে অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৪৮ হাজার ১৪৬ জন প্রার্থী।
পরবর্তীতে গত ২২ এপ্রিল এনটিআরসিএ এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফলাফলে মোট ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পদভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রোল নম্বর এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তবে এ তালিকা মেধাক্রম অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে মোট ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদের বিপরীতে গত ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ শিরোনামে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা আয়োজন এবং পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
Leave a Reply