বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা কার্যক্রম শুরু নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আসায় আপাতত ভাইভা কার্যক্রম স্থগিত অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাইভা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভাইভা আয়োজনের জন্য প্রাথমিকভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তদন্তের বিষয় সামনে আসায় কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আজ সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও ভাইভা শুরুর বিষয়ে কোনো ধরনের অগ্রগতি হয়নি। এমনকি মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপাতত ভাইভা কার্যক্রম শুরু না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও আজই ভাইভার সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত করার কথা ছিল।
এদিকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ভাইভা কবে শুরু হবে—এ প্রশ্ন এখন উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্ভাব্য সময়সূচি ও ভাইভা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে প্রতিদিন অসংখ্য প্রার্থী বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। বিশেষ করে দৈনিক শিক্ষাডটকমের কাছেও এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও ভাইভা শুরুর নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১০ মে থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা কার্যক্রম শুরু করার চিন্তাভাবনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। আগে থেকে প্রস্তুত করা পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ১৪টি বোর্ডের মাধ্যমে দুই শিফটে ভাইভা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রথম শিফট এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে ভাইভা নেওয়ার কথা ছিল। প্রতিটি বোর্ডে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন করে প্রার্থীর ভাইভা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও অনেকটাই সম্পন্ন করা হয়।
ভাইভা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সম্ভাব্য কতদিন সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানায়, প্রতিদিন দুই শিফটে নিয়মিত ভাইভা নেওয়া সম্ভব হলে পুরো কার্যক্রম শেষ করতে আনুমানিক দেড় মাস থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।
এর আগে এনটিআরসিএর ব্যবস্থাপনায় গত ১৮ এপ্রিল ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ এর এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকার ৯টি ভেন্যুতে চারটি পৃথক স্লটে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৪৮ হাজার ১৪৬ জন প্রার্থী।
পরবর্তীতে গত ২২ এপ্রিল এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। প্রকাশিত ফলাফলে মোট ১৪ হাজার ৯৪২ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পদভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রোল নম্বর এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তবে এ তালিকা মেধাক্রম অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়নি বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে মোট ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদের বিপরীতে গত ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ শীর্ষক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, এমসিকিউ পরীক্ষা আয়োজন এবং পরবর্তী ভাইভা কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। তবে তদন্তের বিষয় সামনে আসায় এখন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কী হলো, সেটা তো জানি না