1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম যোগ্যতা সম্পূর্ণ শিক্ষক কোন দেশে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৬৪ Time View
শিক্ষা বোর্ড

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা বহুদিন ধরেই চলমান। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হন শিক্ষকরা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা, সিলেট কিংবা রাজশাহীর মতো অঞ্চলের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতি তিনজন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় একজনই সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারছেন না। তুলনামূলকভাবে পাশের দেশগুলোতে এই হার অনেক কম, প্রতি ১০ জনে মাত্র একজনের ক্ষেত্রে এমন চিত্র দেখা যায়। শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি ‘গুরুতর সংকট’। তাদের অভিযোগ, গত এক দশকের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বড় সমস্যাটি নিয়ে কার্যত পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি।

২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকসের ওয়ার্ল্ড এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস-২০২৫ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ প্রতিটি শিক্ষাস্তরে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক—সব স্তরেই একই ধরনের নিম্ন অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। এই ধারাবাহিক দুর্বলতা নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতের প্রতিটি শিক্ষাস্তরে ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষক ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করেন। সীমিত সম্পদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও নেপালে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই হার ৯২ শতাংশের উপরে। এমনকি জনসংখ্যায় ছোট দেশ ভুটানও প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে শতভাগ যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এর বিপরীতে বাংলাদেশে ২০২২-২৪ সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে যোগ্য শিক্ষকের হার মাত্র ৫৯.২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষক প্রয়োজনীয় ন্যূনতম যোগ্যতা ছাড়াই পাঠদান করছেন। প্রাথমিক স্তরে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো হলেও সেখানে এই হার ৭৬.৩ শতাংশ, যা এখনো উদ্বেগজনক। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী কম যোগ্য শিক্ষকের কাছ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছে।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সেখানে যোগ্য শিক্ষকের হার ৭৩.৪ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে তা ৫৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে মালদ্বীপে প্রাথমিক পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পতন দেখা গেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে তারা এখনো বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে অবস্থান করছে। শ্রীলঙ্কায় কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও প্রাথমিক স্তরে তাদের হার এখনো আশির ঘরে রয়েছে।

একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিসংখ্যান পুরো চিত্র তুলে ধরে না। তবে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড় হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। এই সময়ে বাংলাদেশে সব স্তর মিলিয়ে যোগ্য শিক্ষকের হার গড়ে ৬০ থেকে ৬৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এর বিপরীতে একই সময়ে ভারতে এই হার ছিল ৮৩ থেকে ৮৬ শতাংশের মধ্যে। নেপালেও গড় হার ৮৬ শতাংশের বেশি। ভুটান প্রায় পুরো সময়জুড়েই শতভাগের কাছাকাছি অবস্থান বজায় রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদি তথ্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোনো সাময়িক সমস্যার ফল নয়। এটি এক-দুই বছরের বিচ্যুতি নয়, বরং একটি কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। তাদের ভাষায়, বিভিন্ন সময় সরকার নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও বাস্তব চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

শিক্ষকের যোগ্যতা শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়। শিক্ষা অর্থনীতি বিষয়ক বহু গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের শেখার মান নির্ধারণে শিক্ষকের গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব শিক্ষক ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করেন না, তারা রাষ্ট্র নির্ধারিত মৌলিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মানদণ্ডেও পিছিয়ে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং লিঙ্গসমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে শিক্ষকের যোগ্যতার ঘাটতি এখন শিক্ষার মান উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, শিক্ষার প্রকৃত মান নির্ভর করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং তাদের সামনে কে পাঠদান করছেন তার গুণগত মানের ওপর। ফলে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী হবে এবং কত দ্রুত তা সম্ভব হবে—এ প্রশ্ন এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে। তথ্য-উপাত্ত স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, চ্যালেঞ্জটি বড় এবং এটি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme