বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশোধিত বদলি নীতিমালার ফাইল চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও সেটিতে স্বাক্ষর না করে ফেরত পাঠিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বদলি কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে প্রস্তুত করা সফটওয়্যার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভার পর সংশোধিত বদলি নীতিমালার ফাইলটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর ফাইলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের উদ্দেশ্যে সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়। তবে প্রত্যাশিত অনুমোদন না দিয়ে তিনি ফাইলটি ফেরত পাঠান, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংশোধিত বদলি নীতিমালার ফাইলটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও সচিব তা অনুমোদন না করে ফেরত দিয়েছেন। বর্তমানে ফাইলটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান–এর দপ্তরে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে ফাইল ফেরত দেওয়ার কারণ কিংবা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিয়োগের জন্য প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রকাশিত প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারতেন। তবে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সুযোগ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামলে পরিস্থিতি বিবেচনায় বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সফটওয়্যার প্রস্তুতিতে বিলম্ব, নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখনো সেই কার্যক্রম বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক শিক্ষক পারিবারিক, স্বাস্থ্যগত ও অন্যান্য কারণে বদলির অপেক্ষায় থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বদলি নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
Leave a Reply