বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন সংক্রান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। একই সঙ্গে বেতনের তথ্য সরকারি আইবাস (iBAS) সফটওয়্যারেও সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (০৩ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি বিশ্বস্ত সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বেতনের তথ্য আইবাসে যুক্ত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা এপ্রিল মাসের বেতন হাতে পাচ্ছেন না। এর কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এখনো অর্থ ছাড় হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একজন কর্মকর্তা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতন প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বুধবার (৬ মে) অথবা বৃহস্পতিবার (৭ মে) এর মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন পেয়ে যাবেন।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের এমপিওর অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে প্রেরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেতনের বিল জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় ২৪ এপ্রিলের মধ্যে বিল জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সংক্রান্ত সব বিল যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল প্রস্তাব আকারে দাখিল করেন। এরপর সেই বিলগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বেতন-ভাতার অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তা শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও নিয়মিত, স্বচ্ছ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন পদ্ধতি চালু করেছে। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে এটি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply