বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। গত বুধবার বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ মার্চ জারি করা পরিপত্রে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২৯ মার্চ প্রকাশিত বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে যে নির্দেশাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলোর আলোকে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতিপত্র যে তারিখে গ্রহণ করবে, সেই তারিখের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কোনো দাপ্তরিক চিঠি গ্রহণযোগ্য হবে না। অর্থাৎ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক অভিভাবক সদস্য মনোনয়ন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন এবং বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সভাপতির জন্য প্রস্তাবিত তিনজনের তালিকা—এসব সংক্রান্ত চিঠির তারিখ অবশ্যই অনুমতিপত্র পাওয়ার তারিখের পরবর্তী হতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ১০ এপ্রিল অ্যাডহক কমিটির অনুমতিপত্র পায়, তাহলে এর আগে তারিখযুক্ত কোনো মনোনয়ন বা অনুমোদনপত্র গ্রহণ করা যাবে না।
এছাড়া অনলাইনে অ্যাডহক কমিটি সাবমিট করার সময় প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে পিডিএফ আকারে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভাপতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের চিঠির পাশাপাশি প্রস্তাবিত সভাপতিদের স্নাতক পাসের সনদপত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনীত অভিভাবক সদস্যের নামের পত্র এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষক সদস্যের নামের পত্রও যথাযথভাবে আপলোড করতে হবে।
অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবেদনের শেষে ‘প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামের নিচে বিদ্যালয়ের নাম, ইআইআইএন নম্বর, উপজেলা ও জেলার নাম এবং প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। কারণ এই তথ্যই যেকোনো পত্রের প্রেরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে কোনো ভুল বা অসম্পূর্ণতা থাকলে প্রেরকের ঠিকানাও ভুল বা অসম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
উদাহরণ হিসেবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে—প্রধান শিক্ষক, পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১০২২৪২), গলাচিপা, পটুয়াখালী। মোবাইল নম্বর: (ইআইআইএন ভিত্তিক নম্বর ব্যতীত একটি সচল নম্বর)।
সবশেষে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো ইআইআইএন ভিত্তিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছে না, তাদেরকে আগামী এক মাসের মধ্যে এ ধরনের মোবাইল নম্বর চালু করতে হবে। এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে বোর্ড মনে করছে।
Leave a Reply