বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ৭৩৩ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই তালিকার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে এবং তাদের ইতোমধ্যে প্রাপ্ত বেতন-ভাতাও ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রথম ধাপে স্কুল ও কলেজে কর্মরত ৪৭১ জন জাল সনদধারীর তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রেরণ করে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরও ২৬২ জনের তালিকা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। এই দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ৭৩৩ জনের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ উঠে এসেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো তালিকার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৯৪ জন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সনদ জাল করে চাকরি নিয়েছেন। এছাড়া ২২৯ জন কম্পিউটার সনদ জাল করে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি ৪৮ জনের ক্ষেত্রে বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বিজ্ঞানসহ অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো ২৬২ জনের তালিকায় দেখা যায়, এদের মধ্যে ২৫১ জন এনটিআরসিএ সনদ জাল করে চাকরি করছেন বা করেছেন। এছাড়া আরও ১১ জনের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম ডিআইএ ২০১২ সাল থেকেই শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ‘পুলিশ’ হিসেবে পরিচিত এই সংস্থাটি নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে জাল সনদধারীদের শনাক্ত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই তালিকা প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালের শুরুতে ডিআইএ স্কুল-কলেজে কর্মরত ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা খাতে প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। সে সময় মন্ত্রণালয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। ফলে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি সরকার।
নিম্নে সকল বিষয় ও প্রতিষ্ঠানের ক্যাটাগরি ভিত্তিক তালিকা দেওয়া হলোঃ
এনটিআরসিএ জাল সনদ কারিগরি ও মাদ্রাসার তালিকা দেখুন এখানে
জাল সনদ স্কুল ও কলেজ অন্যান্যের তালিকা দেখুন এখানে
জাল সনদ স্কুল ও কলেজ এনটিআরসিএর তালিকা দেখুন এখানে
জাল সনদ স্কুল ও কলেজ কম্পিউটারের তালিকা দেখুন এখানে
বিপিএড ও অন্যান্য জাল সনদধারীর তালিকা দেখুন এখানে
Adra Abdul Mannan High School, Melandah,Jamalpur