বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়ত আগামীকালের মধ্যে হয়ে যাবে যদিও এরপরেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তিতে আরও বেশ কিছু ধাপ বাঁকি থেকে যাবে। বেতনের সেই ধাপ গুলো সম্পুর্ণ হয়ে তথ্য ইতোমধ্যে আইবাস (iBAS) সফটওয়্যারে সংযুক্ত হতে এবং শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট পৌছাতে পৌছাতে আরও বেশ কয়েকদিন সময় লেগে যাবে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে ৪.৪০ মিনিটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যদিও বেতনের তথ্য আইবাস সিস্টেমে আপলোড সম্পন্ন হয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যাংক হিসাব নম্বরে পৌছাতে আরও বেশ কিছু দিন সময় লাগবে। কারণ, এরপরও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় সহ আরও অন্যান্য প্রসেস বাঁকি রয়েছে। এই সকল কাজ বা প্রসেসগুলো শেস করতে আগামী সপ্তাহের শেষ অবধি সময় লেগে যাবে, সেই ক্ষেত্রে শিক্ষক কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে বেতনের টাকা পেীছাতে পৌছাতে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ অথ্যাৎ বুধবার বা বৃহস্পতিবার হয়ে যাবে।
মাউশির ইএমআইএসসেলের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত ৩ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী মাসে তারা বেতন-ভাতা পাবেন।
এর আগে, গত ২২ এপ্রিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের এমপিওর অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে প্রেরণের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিল জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ২৪ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিল জমা দিতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-সংক্রান্ত বিল যথাসময়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিল জমা দেওয়ার বিষয়ে জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে প্রেরণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে আগস্ট ২০২৫ মাস থেকে অনলাইনে বিল সাবমিট করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস)-এর এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করেন। এরপর তারা প্রত্যেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য আলাদাভাবে বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য বেতনের পরিমাণ নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করেন।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে প্রেরণ করা হয়, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয় দ্রুত, নির্ভুল এবং জবাবদিহিমূলক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল প্রস্তাব আকারে দাখিল করেন। এরপর সেই বিল যাচাই-বাছাই করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেতন-ভাতার অর্থ ব্যাংকগুলোতে প্রেরণ করে, যা পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়াকে নিয়মিত, স্বচ্ছ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে বেতন প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং জটিলতা অনেকাংশে কমে এসেছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply