বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পরিকল্পিত বদলি সফটওয়্যার উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফটওয়্যারটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া, কিছু কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়া, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি সম্পন্ন না হওয়ায় এই কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বদলি সফটওয়্যার উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সফটওয়্যারটিতে আরও কিছু ফিচার যুক্ত করার নির্দেশনা দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো সেই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে সফটওয়্যার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে না।
সূত্র আরও জানায়, শুধু সফটওয়্যার প্রস্তুত করাই নয়, উদ্বোধনের আগে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই কাজটি সম্পন্ন করবেন। তার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত শনিবার সফটওয়্যার উদ্বোধনের বিষয়ে তারা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সফটওয়্যারে বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কর্মচারীদের বদলি ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে নতুন কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই বদলি কার্যক্রম চালুর সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওইদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন স্পষ্টভাবে বলেন যে, বদলি কার্যক্রম শুরু করার আগে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে হবে। ফলে এ বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বদলি চালু হতে আরও সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার অনুষ্ঠিত সভায় বদলি সফটওয়্যারের মোট ১৪টি ধাপ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্য চারটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে সফটওয়্যারের নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রদানকৃত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। সঠিকভাবে লগইন সম্পন্ন হলে তৃতীয় ধাপে ড্যাশবোর্ড প্রদর্শিত হবে। এরপর চতুর্থ ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানের তথ্য প্রদান সম্পন্ন হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যক্রম শুরু হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও একইভাবে প্রথমে লিংকে প্রবেশ করে, দ্বিতীয় ধাপে আইডি-পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করে চতুর্থ ধাপে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জমা দেওয়া তথ্য অপেক্ষমান তালিকায় দেখতে পাবেন এবং সেই তালিকায় ক্লিক করতে হবে।
এরপর পর্যায়ক্রমে পঞ্চম ধাপে পদ ও শূন্যপদের তথ্য প্রদান, ষষ্ঠ ধাপে শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য সংযোজন, সপ্তম ধাপে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা এবং অষ্টম ধাপে সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করতে হবে।
সফটওয়্যার অনুযায়ী, অপেক্ষমান তালিকা থেকে নির্দিষ্ট আবেদন নির্বাচন করে ‘ভিউ’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রদত্ত তথ্য সঠিক হলে অনুমোদন (Approve) বাটনে ক্লিক করতে হবে, আর তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে প্রত্যাখ্যান (Reject) বাটন নির্বাচন করতে হবে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকা ডাউনলোড করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া জেলা শিক্ষা অফিসারদের দায়িত্ব থাকবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পাঠানো তথ্য পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আপডেট করা। অন্যদিকে জোনাল বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালকেরা জেলা পর্যায় থেকে প্রেরিত তথ্যের যথার্থতা যাচাই করে তা চূড়ান্তভাবে হালনাগাদ করবেন।
Leave a Reply