1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

এমপিওভুক্ত ২৬২ জাল সনদধারীর চিহ্নিত, এমপিও বন্ধের নির্দেশনা আসছে

  • Update Time : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৭৩ Time View
৭৩৯ জাল সনদধারীর কাছে সরকারের পাওনা কত টাকা জানাল ডিআইএ

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ৪৭১ জন জাল সনদধারীর তথ্য প্রকাশের পর এবার মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরও ২৬২ জন জাল সনদধারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) স্থগিত, ফৌজদারি মামলা দায়ের, এবং বেতন-ভাতা হিসেবে গ্রহণ করা অর্থ ফেরত নেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হতে পারে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের নিকট প্রেরণ করেছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিআইএর মাধ্যমে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে পরিচালিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে শনাক্তকৃত জাল বা ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন প্রতিবেদন, জাল সনদের অনুলিপি এবং সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত মতামত সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত তালিকায় মোট ২৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২৫১ জনের বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সনদ জাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট ১১ জনের ক্ষেত্রে বিএড, বিপিএড, গ্রন্থাগার বিজ্ঞানসহ অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব জাল সনদধারীর কাছ থেকে সরকার প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু এনটিআরসিএ সনদ জালিয়াতদের কাছ থেকেই প্রায় ৪৮ কোটি টাকার বেশি এবং অন্যান্য জাল সনদধারীদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অধিদপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ডিআইএর পাঠানো তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথকভাবে নির্দেশনা পাঠানো হবে। যেহেতু এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, তাই তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অধিদপ্তরগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে ডিআইএ সারা দেশে জাল সনদ শনাক্তকরণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের জাল সনদধারীদের তালিকাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল।

এর আগে, ২০২৩ সালের শুরুতে ডিআইএ স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ৬৭৮ জন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা পর্যায়ে প্রায় ২০০ জন জাল সনদধারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। সে সময় মন্ত্রণালয় এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ একাধিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে অনেক অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করায় বিচারাধীন মামলার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিআইএর প্রেরিত চিঠি ইতোমধ্যে বিভাগে পৌঁছেছে এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিগগিরই নির্দেশনা জারি করা হবে।

অন্যদিকে, ডিআইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে মোট ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারের মোট আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাঁচ বছরে ডিআইএ মোট ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৭ হাজার ৯৮টি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ৭৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১ হাজার ৮২টি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয় এবং প্রায় ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাল সনদের সংখ্যা বেড়ে ১২৭টিতে পৌঁছায় এবং আদায়যোগ্য অর্থ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ওই সময়ে ২ হাজার ২০৯টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হলেও প্রতিবেদন সংখ্যা কমে ১ হাজার ৩৪৯টিতে নেমে আসে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৫৮টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়, যেখানে ১০৫টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয় এবং প্রায় ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিদর্শনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতিবেদন প্রেরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮৩২টিতে পৌঁছে। একই সময়ে সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে গত কয়েক বছরে মোট জাল সনদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯টিতে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী চার বছরে নির্ধারিত প্রায় ৪১৯ কোটি টাকার সঙ্গে চলতি বছরে যুক্ত হওয়া আরও ১১৫ কোটি টাকা মিলিয়ে সরকারের মোট আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme