বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আর এই লক্ষ্যেই একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, একই যোগ্যতা ও একই বিষয়ের দুইজন শিক্ষক যদি বদলির জন্য আবেদন করেন, তাহলে তাদের মধ্য থেকে কেবল একজনকে বদলি করা হবে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বাড়ির দূরত্ব।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বদলি প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে প্রার্থীর বাড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে কত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যখন একই উপজেলার মধ্যে একই বিষয়ের দুইজন শিক্ষক একই প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করবেন, তখন এই দূরত্বের ভিত্তিতেই যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, যদি একই উপজেলার দুইজন শিক্ষক একই প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করেন, তাহলে উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে যার বাড়ির দূরত্ব বেশি, তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং তিনিই শেষ পর্যন্ত বদলির সুযোগ পাবেন।
এর আগে, শনিবার আয়োজিত এক সভায় বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারটি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে মোট ১৪টি ধাপ প্রদর্শন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্য চারটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। সঠিকভাবে লগইন সম্পন্ন হলে তৃতীয় ধাপে ড্যাশবোর্ড দেখা যাবে। এরপর চতুর্থ ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানের তথ্য প্রদান শেষ হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যক্রম শুরু হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও প্রথমে নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করতে হবে, তারপর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। লগইনের পর ড্যাশবোর্ড প্রদর্শিত হবে এবং চতুর্থ ধাপে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের দেওয়া তথ্য ‘অপেক্ষমান তালিকা’-তে দেখা যাবে। এই তালিকায় প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করতে হবে।
এরপর পঞ্চম ধাপে পদ ও শূন্য পদের তথ্য প্রদান করতে হবে। ষষ্ঠ ধাপে শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। সপ্তম ধাপে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করতে হবে এবং অষ্টম ধাপে সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করতে হবে।
সফটওয়্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী, অপেক্ষমান তালিকা থেকে নির্দিষ্ট আবেদনটি নির্বাচন করে ‘ভিউ’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তথ্য সঠিক থাকলে ‘অনুমোদন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে, আর কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে ‘প্রত্যাখ্যান’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তালিকাটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে।
এদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসারদের দায়িত্ব থাকবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো তথ্য পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা আপডেট করা। অন্যদিকে, জোনাল বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালকেরা জেলা শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো তথ্যের যথার্থতা যাচাই করে চূড়ান্তভাবে তা হালনাগাদ করবেন।
Leave a Reply