শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি সমন্বিত বদলি নীতিমালা ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে বিশেষ করে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকরা নিজ নিজ জেলায় বদলির সুযোগ পাবেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে Facebook-এ ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনাকারীরা দাবি করছেন, সংশোধিত বদলি নীতিমালায় ইনডেক্সধারী সব শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও মন্ত্রীর বক্তব্যে কেবল এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা বিভ্রান্তি ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকৃত অবস্থা জানতে সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলোচনার সময় শিক্ষামন্ত্রী এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে এটি সম্ভবত শব্দচয়নজনিত ভুল ছিল। কারণ সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইনডেক্সধারী সকল শিক্ষকই বদলির সুযোগ পাবেন।
সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হয়তো ভুলবশত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্তদের কথাই উল্লেখ করেছেন। বাস্তবে বদলি প্রক্রিয়াটি হবে সার্বজনীন, অর্থাৎ ইনডেক্সধারী প্রত্যেক শিক্ষকই এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। সংশোধিত নীতিমালায় সে অনুযায়ী বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে, একই সভায় বদলি সফটওয়্যারটির কার্যপ্রণালীও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। সফটওয়্যারটিতে মোট ১৪টি ধাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করে বদলি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্য সফটওয়্যারে চারটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রদত্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। লগইন সফল হলে তৃতীয় ধাপে ড্যাশবোর্ড প্রদর্শিত হবে। এরপর চতুর্থ ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানের তথ্য প্রদানের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যক্রম শুরু হবে। তাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রথমে লিংকে প্রবেশ, তারপর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন এবং ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের দেওয়া তথ্য অপেক্ষমান তালিকায় দেখা যাবে এবং সেই তালিকায় প্রবেশ করতে হবে।
পরবর্তী ধাপগুলোতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পদসংক্রান্ত তথ্য ও শূন্য পদের বিবরণ দিতে হবে। এরপর শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হবে এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল সংক্রান্ত তথ্যও যুক্ত করতে হবে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তা সাবমিট করতে হবে।
সফটওয়্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী অপেক্ষমান তালিকা থেকে নির্দিষ্ট আবেদনে প্রবেশ করে ভিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রদত্ত তথ্য সঠিক হলে অনুমোদন বাটনে ক্লিক করতে হবে, আর কোনো ভুল থাকলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে তালিকাটি ডাউনলোড করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থাকবে উপজেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্য পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় আপডেট করা। অন্যদিকে, জোনাল বা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালকেরা জেলা পর্যায় থেকে প্রেরিত তথ্যের চূড়ান্ত যাচাই করে সেটি হালনাগাদ করবেন।
Leave a Reply