এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই কর্মপরিকল্পনায় শিক্ষাখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রী ড. মিলন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার-এর কাছে একটি ডিও লেটার প্রেরণ করেন। ওই প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিল, তার তুলনায় কিছুটা কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবুও প্রাপ্ত বরাদ্দ দিয়েই উৎসব ভাতা বৃদ্ধি এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাবিভাগের জন্যও পৃথকভাবে বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হলে (অর্থাৎ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি), স্কুল পর্যায়ে ভাতার জন্য অতিরিক্ত ৫৪৭৬১৪ হাজার টাকা এবং কলেজ পর্যায়ে ২২৯২৪ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। ফলে মোট অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দাঁড়াবে ৭৭৬৬৩৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্কুলের বেতন খাতে অতিরিক্ত ৫৯৬৬৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পাঠানো ডিও লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত প্রাথমিক ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাদের ঘোষিত ইশতেহারে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা বিকাশ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি আনন্দমুখর ও মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply