বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রহণ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, সম্প্রতি তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মূলত পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দেখতে চেয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরীক্ষা দিচ্ছেন কিনা, তাদের বসার ব্যবস্থা যথাযথ আছে কিনা এবং তারা কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপ্রাসঙ্গিক আচরণে জড়িত কিনা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সেখানে নকল ধরার কোনো বিষয়ই ছিল না এবং এ ধরনের পরীক্ষায় নকলের প্রশ্নও ওঠে না।
মন্ত্রী আরও জানান, লিখিত পরীক্ষার ওএমআর (OMR) শিটগুলো প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-কে। এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা কারসাজির সুযোগ না থাকে। তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজমেন্ট কমিটি প্রধান নিয়োগ দিতো। কিন্তু সেই ব্যবস্থায় অনেক সময় ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতো। এই সমস্যা এড়াতেই এখন কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই ধাপে সবচেয়ে বেশি স্বজনপ্রীতি (নেপোটিজম) ও পক্ষপাতিত্ব (ফেভারিটিজম) হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই অংশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে এআই-ভিত্তিক পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে মানবিক পক্ষপাত দূর করা সম্ভব হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যাবে।
Leave a Reply