শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা যেখানে মানুষ সাধারণত নিজের ইচ্ছা ও আগ্রহ থেকেই আসে। তাই এই পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবসময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনাজপুর অঞ্চলের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষকদের মানোন্নয়ন হোক—এটি সবারই প্রত্যাশা। এ সময় তিনি উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে জানতে চান, তারাও কি একই মত পোষণ করেন। তিনি জানান, আগামীকাল এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গত ১৬ এপ্রিল ফ্যাক্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে আদালতের নির্দেশে এই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “দেখুন কী একটা পরিস্থিতি! আমরা কেমন দেশে বাস করি? শিক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, সেটিও আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়!”
তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন শিক্ষকতা হলো শেষ বিকল্প পেশা, কিন্তু বাস্তবে এটি সঠিক নয়। শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশা, যা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো দায় চাপানো হবে না। বরং সব দায়ভার নিতে হবে শিক্ষক এবং মন্ত্রণালয়কে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কারো সমালোচনা করতে চাই না। অতীতে যা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো আলোচনা বা সমালোচনা হবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা নকল করে না। যদি কোনো কেন্দ্র সচিব দায়িত্ব পালনে নিজেকে অক্ষম মনে করেন, তাহলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহা. তৌহিদুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ, সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. জেড, এম. রেজওয়ানুল হক এবং দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
Leave a Reply