দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তির ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী করে তোলার লক্ষ্যে সরকার একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে ঘোরাঘুরি কমিয়ে তাদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। এ উদ্দেশ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক এবং প্রেরণামূলক (মোটিভেশনাল) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন বিভাগ থেকে অধিভুক্ত দেশের সব কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের আচরণগত পরিবর্তন আনা এবং একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার যৌথ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে এই কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব প্রতিরোধ করা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া এবং সহপাঠ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেন যে, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাইরে ঘোরাফেরা করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হতে পারে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনার ঘটনা সামনে আসে, যেখানে কিছু শিক্ষার্থীকে আটকও করা হয়। এমনকি রাজধানী ঢাকাতেও অনুরূপ অভিযানের খবর পাওয়া যায়, এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার বক্তব্য কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্দেশ করার জন্য ছিল না; বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করে তোলার উদ্দেশ্যেই তিনি এ কথা বলেছিলেন। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি উল্লেখ করেন, সন্ধ্যার সময়টিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং সেই গুরুত্ব অনুধাবন করাতেই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।
Leave a Reply