বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ এপ্রিলই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এনটিআরসিএর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই এবং ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে একই দিনে একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল।
আদালতের ওই আদেশের পর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন শনিবার অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষা দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এনটিআরসিএ কর্তৃক গত ২৫ মার্চ জারি করা সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতাও দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্য পদে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে রিটকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর প্রায় ১৯ থেকে ২৫ দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নীতিমালায় এসব পদে আবেদনের জন্য অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়িয়ে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে আগের বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী আবেদন করা অনেক প্রার্থী নতুন করে অযোগ্য হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে ২৫ মার্চ এনটিআরসিএ পূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে সংশোধিত একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১৪ জন আবেদনকারী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থগিতাদেশ জারি করার পাশাপাশি একটি রুলও জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন ২৫ মার্চ জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ ও আইনগত ক্ষমতার বাইরে ঘোষণা করা হবে না। এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply