২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন করে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে, যা পরীক্ষার পরিবেশকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল রাখার একটি বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নীতিমালায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো পরীক্ষার্থীকে সরাসরি বা প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে, নিরবে তার খাতা বাতিলের মাধ্যমে পরীক্ষার বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ, পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয় না; বরং পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করে নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ ধরনের নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে থাকতে পারে—পরীক্ষার সময় কথা বলা, অন্য পরীক্ষার্থীর খাতা দেখার চেষ্টা করা, বারবার ঘাড় ঘোরানো বা যেকোনোভাবে অসদুপায় অবলম্বনের ইঙ্গিত দেওয়া। এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরা না পড়লেও, তার বিরুদ্ধে ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রয়োগ করা হতে পারে। পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়।
নির্দেশনায় আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বন বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে সরাসরি বহিষ্কার কিংবা নীরব বহিষ্কারের আওতায় আনা হলে, তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ অক্ষত রেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন এবং বোর্ডের ওয়েবসাইটে নির্ধারিত গোপনীয় ফরমে যথাযথভাবে তথ্য পূরণ করবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় ও পত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদা করে একটি পৃথক প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে। প্যাকেটটির ওপর লাল কালিতে স্পষ্টভাবে “Reported” লিখতে হবে এবং সেটি কেন্দ্রের অন্যান্য উত্তরপত্রের সঙ্গে না মিশিয়ে আলাদাভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে।
এছাড়া নীরব বহিষ্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এর কারণ অবশ্যই প্রত্যবেক্ষকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ, কেন একজন পরীক্ষার্থীকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হলো, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আকারে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা আপত্তির সুযোগ না থাকে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নীরব বহিষ্কারের আওতায় পড়া পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। যদি কোনো পরীক্ষার্থী একবার নীরব বহিষ্কারের শিকার হন, তাহলে পরবর্তী বিষয়গুলোর পরীক্ষায় সে আর কোনো অনিয়ম না করলেও তার সব উত্তরপত্র আলাদা প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে। প্রতিটি বিষয় ও পত্রের সৃজনশীল এবং নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) উত্তরপত্র আলাদাভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে। সেই প্যাকেটে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পূর্বের নীরব বহিষ্কারের বিষয়, পত্র এবং কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন সংযুক্ত করতে হবে এবং অন্যান্য উত্তরপত্র থেকে পৃথকভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত নতুন নীতিমালায় ‘নীরব বহিষ্কার’ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অসদুপায় প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply