প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রতি উপজেলা পর্যায়ে গার্লস স্কুল ও আলিয়া মাদরাসা সরকারিকরণের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি; তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হলে সরকার তা বিবেচনায় নিতে পারে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্য জানতে চান, সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছে—কিন্তু একইভাবে প্রতিটি উপজেলায় একটি গার্লস স্কুল ও একটি আলিয়া মাদরাসা সরকারিকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে তাঁর মনে নেই। তবে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিষয়ে নোটিশ আনা হলে সরকার তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী শিক্ষার বিস্তার এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের নীতিগত পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় রয়েছে এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেদিন সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু তাঁর প্রশ্নে বিশেষভাবে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানতে চান, শুধু ওই প্রতিষ্ঠানই নয়—দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কতদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চার দিন মুলতবি থাকার পর আজ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়েছে।
Leave a Reply