অবসরে যাওয়া বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা টাকা উত্তোলনে বিলম্ব প্রসঙ্গে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের বিপুল পরিমাণ অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে ট্রাস্টের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তিনি জানান, বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে অর্থসংকট নিরসনে আগামী জাতীয় বাজেটে একটি উল্লেখযোগ্য থোক বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি স্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা হলো—অবসরে যাওয়া বহু শিক্ষক বছরের পর বছর আবেদন করার পরও তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাননি। অনেকেই বার্ধক্য ও অসুস্থতার মধ্যেও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এমনকি অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেদের সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অসম্মানজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, পাওনা টাকা না পেয়ে চিকিৎসার অভাবে কয়েকজন শিক্ষক মৃত্যুবরণও করেছেন—যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের এই দুরবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এজন্য কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিল পুনর্গঠন, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত অর্থ বিতরণের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংকট আর না তৈরি হয়, সে লক্ষ্যে একটি টেকসই আর্থিক কাঠামো তৈরির দিকেও সরকার কাজ করছে।
Leave a Reply