শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা কি জানেন এনটিআরসিএ’র প্রশ্নপত্র যারা তৈরি করেন, তাদের কীভাবে রাখা হয়? তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে প্রশ্ন প্রণয়নকারীদের কার্যত ‘হাউজ অ্যারেস্ট’-এর মতো অবস্থায় রাখা হয়। তারা বাইরে যেতে পারেন না, এমনকি তাদের কোনো ফোন ব্যবহারের সুযোগও থাকে না। টানা তিনদিন তাদের বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)-এ আটকে রাখা হয়। এরপর পরীক্ষা সম্পন্ন হলে তাদের মুক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের হোটেল মমো ইন-এ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একটি দেশের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। আমাদের নৈতিকতার এমন অবক্ষয় ঘটেছে যে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারীদের এভাবে সীমাবদ্ধ করে রাখতে হচ্ছে। তাদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় না, বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমি যখন কারাগারে ছিলাম, তখন যেভাবে আমাকে ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো, ঠিক একইভাবে সীমিত সুযোগে তাদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিকে তিনি দেশের একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের অবশ্যই এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত বছর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখেন সময় দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আলাদা করে চাপ না দিয়ে নিজ উদ্যোগেই বৃত্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন। তবে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ার পরও সমালোচনা হয়েছে, যেখানে তিনি আশা করেছিলেন এটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ধীরে ধীরে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে (টিচার্স ট্রেনিং) অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই বিপুল অর্থ কীভাবে যথাযথভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট পরিকল্পনা নির্ধারণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইন-হাউজ কোচিং প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা যে অর্থ প্রদান করবে তা শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। তবে বাইরে বাণিজ্যিক কোচিং পরিচালনা করার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। আর যদি প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে এই বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করতে হবে।
Leave a Reply