শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেন—যেসব শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে গেছে, তাদের হাতে যখন বই নেই, তখন কেন বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এর জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যাদের বই নেই, তাদেরকে তো কেউ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেনি। বরং যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি অর্জন করবে, তারা ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাবে—এই বিষয়টিই বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার হোটেল মমো ইন-এ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, গত বছর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখেন, সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আলাদা করে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তিনি নিজ উদ্যোগেই বৃত্তির ব্যবস্থা করবেন। তিনি মনে করেছিলেন, এই উদ্যোগটি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হবে, কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীতে নানা নেতিবাচক মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।
তিনি জানান, ধীরে ধীরে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই বরাদ্দকৃত অর্থ কীভাবে সঠিকভাবে ব্যয় করা হবে, সেটি নির্ধারণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি।
ইন-হাউজ কোচিং প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা যে অর্থ প্রদান করবে তা শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবেন। তবে প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত কোচিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন। সরকারের মূল প্রতিশ্রুতি হচ্ছে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, আর যদি সত্যিকারের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে এসব বিষয় নিয়েই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
Leave a Reply