1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

পাশের হার বাড়ার নেপথ্যের কারণ কি? সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি! নাকি অন্য কিছু?

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯২ Time View
সৃজনশীল নাকি অন কিছু

বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হার ধারাবাহিকভাবে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষার প্রকৃত মানও সমানতালে উন্নত হয়েছে কি না—এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করে, অতীতে ফলাফলকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়নি। শুধু পাসের হার বাড়ানোই নয়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজন করে এবং সেই বছরের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় এক ধরনের নাটকীয় পতন। আগের বছরের তুলনায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, একই সঙ্গে কমে যায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল নিম্নমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অবসান। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানান, পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যেমন পরীক্ষা দিয়েছে, সেই অনুযায়ী সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছে; অতীতের মতো ফলাফলকে বাড়িয়ে দেখানো হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই বছরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩ হাজার ৯৭ জন কম।

এদিকে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা আরোপ এবং নকল প্রতিরোধে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, খাতায় যা লেখা থাকুক না কেন, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে; কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না। এর ফলে শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দেড় যুগে পাসের হার বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির প্রবর্তনকে দায়ী করা হয়। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাও এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত ছিল। যদিও পরীক্ষার হলে নকল বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান খুব বেশি পাওয়া যায় না, তবে ২০২২ সালে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে দিনাজপুর বোর্ডের চারটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঘটনা এ বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

শিক্ষাবিদদের মতে, পাসের হার বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো কারণ নয়, বরং একাধিক উপাদান একসঙ্গে কাজ করেছে। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে সহজে উত্তর করতে পারছে, নম্বর প্রদানে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে, পাশাপাশি নকলের প্রভাবও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

২০০৮ সালের পর সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালুর ফলে প্রশ্নের কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণ ও প্রয়োগমূলক দক্ষতা দেখাতে পারে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষকই এই পদ্ধতির যথাযথ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেননি। ফলে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা তৈরি হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মনিরা জাহান বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতি পাসের হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। মূল্যায়নের দক্ষতা ও প্রয়োগের ঘাটতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৩১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৮৮ শতাংশে, যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপদ্ধতি চালুর পর থেকেই পাসের হার বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রশ্নব্যাংক থেকে প্রশ্ন আসায় শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে ভালো ফল করত। ১৯৯৬ সালে প্রশ্নব্যাংক বাতিল করা হলে পাসের হার হঠাৎ কমে যায়। বর্তমানে পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ নম্বর সৃজনশীল এবং ৩০ শতাংশ এমসিকিউ থেকে নির্ধারিত হয়।

অন্যদিকে, ২০০১ সালে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু এবং ২০০৩ সালে জিপিএ-৫ স্কেল চালুর পর ফলাফলে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। শুরুতে জিপিএ-৫ কম থাকলেও পরবর্তীতে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবর রহমানের মতে, ২০২৫ সালের ফলাফলে পতনের পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও কাজ করেছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতি অস্থির থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল, যা তাদের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত পরীক্ষা-নির্ভর এবং পরিবার থেকেও জিপিএ-৫ অর্জনের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকে। এই চাপ অনেক শিক্ষার্থী সহ্য করতে পারে না, যার নেতিবাচক প্রভাব তাদের মানসিক অবস্থার ওপর পড়ে।

ড. মনিরা জাহান তার গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অনেক শিক্ষক প্রশ্ন তৈরি করলেও এর গভীরতা পুরোপুরি বোঝেন না। ফলে গাইড বই ও প্রশ্নব্যাংকের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলে। তিনি আরও বলেন, প্রশ্নের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে প্রাথমিক ধাপগুলো অধিকাংশ শিক্ষার্থী সহজেই সম্পন্ন করতে পারে। তবে উচ্চতর স্তরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং নম্বর প্রদানে কিছুটা শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়।

নকল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি বাস্তব সমস্যা। বিভিন্ন সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল সরবরাহ বা দলবদ্ধভাবে উত্তর করার ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব বিষয়ও পাসের হার বৃদ্ধিতে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে শিক্ষাবিদদের অভিমত হলো, এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধির পেছনে কোনো একক কারণ নয়; বরং প্রশ্নপদ্ধতির পরিবর্তন, নম্বর প্রদানে নমনীয়তা, নকল এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়েই এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme