বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য মার্চ মাসের বেতন সংক্রান্ত একটি বড় সুখবর দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে মার্চ মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে এখন খুব শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) মাউশির একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এদিন সকালেই শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতনের বিল আইবাস (iBAS++) সিস্টেমে জমা দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেনের উদ্যোগে একই দিন সকালে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে বেতনের অনুমোদন আদায় করা সম্ভব হয়। অনুমোদন প্রাপ্তির পরপরই বিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, মার্চ মাসের বেতনের অনুমোদন ইতোমধ্যে অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে পাওয়া গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ থেকেই বেতনের এসএমএস বা মেসেজ পেতে শুরু করবেন। সর্বোচ্চ আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অধিকাংশ শিক্ষক তাদের বেতনের বার্তা পেয়ে যাবেন। তবে সোনালী ব্যাংক হতে যেসকল শিক্ষক কর্মচারী বেতন উত্তোলন করেন তাদের বেতনের মেসেজ ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে আসা করা যায় অন্যান্য ব্যাংকে যাদের একাউন্ট রয়েছে তাদের মেসেজেও চলে আসবে যদি কোনো কারণে আগামীকালের মধ্যে বেতনের মেসেজ না পান, তাহলে আগামী রবিবারের মধ্যে তা পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। তবে আশা করা যায় আগামীকালের মধ্যেই সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের কাঙ্খিত বেতনের মেসেজ পেয়ে যাবেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব পাঠিয়ে থাকেন। এরপর অনলাইনের মাধ্যমে বিল দাখিল করা হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে। যাচাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেতন-ভাতা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে আগের তুলনায় এখন বেতন প্রক্রিয়াকরণে সময় কম লাগছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
Leave a Reply