বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষা আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর একই মাসের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ—বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদের এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাত দিনের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে। ফলাফল প্রকাশের পরপরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে এবং সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা শুরু হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ কার্যক্রমকে সামনে রেখে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২৬ এপ্রিল থেকেই মৌখিক পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হবে। তবে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে এবং ভাইভার তারিখ পেছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পদের সংখ্যা আবারও কমানো হয়েছে, যা এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হ্রাস করা হলো। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এনটিআরসিএ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে প্রথম সংশোধনীর পর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদের মোট সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৯৫১টি। তবে সর্বশেষ পুনর্বিবেচনার পর এই সংখ্যা কমিয়ে বর্তমানে ১১ হাজার ১৫১টি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এর পাশাপাশি তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়কালের মধ্যে আবারও প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের নতুন একটি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৫১ জন, আর নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭১৮ জন। তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষার পরবর্তী সব ধাপ যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কার্যক্রম ইতোমধ্যে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply