শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সরাসরি পরীক্ষা গ্রহণ করবে এবং সেই ভিত্তিতে সুপারিশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থাও এনটিআরসিএর মাধ্যমে পরিচালিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সভাটি বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া চালু হলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ কমে যাবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বদলি ব্যবস্থা যদি এনটিআরসিএর নিয়ন্ত্রণে যায়, তাহলে এটি কেবল পরীক্ষা ও সুপারিশভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে, ফলে সাধারণভাবে প্রত্যাশিত সর্বজনীন ও সমান সুযোগভিত্তিক বদলি ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে এনটিআরসিএকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। তার ভাষায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিশৃঙ্খলা দূর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এছাড়া তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক ধারার কথাও উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি গঠনের সূচনা ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধিত হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
Leave a Reply