নবম পে-স্কেলের আওতাভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে-কমিশন এ বিষয়ে মতামত দিয়ে জানায় যে, শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়; বরং এ দায়িত্ব বাংলাদেশ সার্ভিস কমিশনের আওতায় পড়ে। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। তবে বর্তমান সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ১ম গ্রেডে শিক্ষকদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বার্ষিক ২.৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট, ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য গ্রেডের জন্য প্রস্তাবিত মূল বেতন কাঠামোতে ২য় গ্রেডে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৪র্থ গ্রেডে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৫ম গ্রেডে ৯৫ হাজার টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৮০ হাজার টাকা, ৭ম গ্রেডে ৭০ হাজার টাকা, ৮ম গ্রেডে ৬২ হাজার টাকা, ৯ম গ্রেডে ৫৫ হাজার টাকা, ১০ম গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা, ১১তম গ্রেডে ৪৫ হাজার টাকা, ১২তম গ্রেডে ৪০ হাজার টাকা, ১৩তম গ্রেডে ৩৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১৪তম গ্রেডে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১ম গ্রেডের অধ্যাপক বা সিনিয়র শিক্ষকদের জন্য মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ৯ম গ্রেডের লেকচারার বা এন্ট্রি পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া ১০ম গ্রেডে সহকারী শিক্ষকসহ সমমানের পদে কর্মরতদের জন্য মাসিক মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এতে বেসরকারি শিক্ষা খাতে কর্মরত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply