বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বৈশাখী ভাতার বিল সাবমিট করা নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের এই উদাসীনতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা না পড়লে তাদের হাতে ভাতার টাকা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিল জমা না দিলে তারা এ বছরের বৈশাখী ভাতার অর্থ থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) বিভাগের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে যারা তাদের বৈশাখী ভাতার বিল সাবমিট করবেন না, তাদের আর কোনোভাবেই এই ভাতার টাকা প্রদান করা হবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে পরবর্তীতে বিল গ্রহণ বা অর্থ প্রদান—দুটোই বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানান, এখনো প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষক তাদের বিল সাবমিট করেননি, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগজনক। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। চিঠিটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতার বিল সাবমিট করার অনলাইন অপশন চালু করা হয়। তখন থেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাইকে বিল জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। প্রথমে বিল সাবমিটের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ এপ্রিল।
তবে বাস্তব চিত্র হলো, এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী তাদের বিল জমা দেননি। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে—যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতনের বিল সাবমিটের জন্যও অনলাইন অপশন চালু করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল বিল জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধীরগতি দেখা যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন চাপের মুখে পড়েছে।
Leave a Reply