সরকারি কলেজে কর্মরত বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা বাতিল হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে এসব কর্মকর্তা ‘ভ্যাকেশন ক্যাডার’ হিসেবে বিবেচিত হবেন না; বরং তারা ‘নন-ভ্যাকেশন ক্যাডার’-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। ফলে সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের মতোই তাদের ছুটি ভোগ করতে হবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, অর্থাৎ বছরে সর্বোচ্চ ২০ দিনের অর্জিত (earned leave) ছুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক স্মারকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। স্মারকে উল্লেখ করা হয়, এতদিন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ভ্যাকেশন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত থাকায় তারা গ্রীষ্ম ও শীতকালীন দীর্ঘ ছুটির সুবিধা ভোগ করতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবস্থার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং সেটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল।
এ প্রেক্ষাপটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন এ সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষকদের দীর্ঘ ছুটি কমিয়ে তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় রাখা। বর্তমানে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তারা কলেজ বন্ধ থাকাকালে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন পূর্ণ ছুটি ভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অঘোষিত ছুটির সুবিধাও পেতেন, যা কার্যত তাদের কর্মঘণ্টা ও উপস্থিতিকে প্রভাবিত করত।
যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে পুরো শিক্ষা খাতকে সরাসরি ‘নন-ভ্যাকেশন বিভাগ’ হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল এবং এটিকে পুরোপুরি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেনি, তবুও তারা একটি সমন্বিত সমাধানের পথ খোলা রাখে। বিশেষ করে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অর্জিত ছুটি, গড় বেতনের সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ফলে চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি কলেজের শিক্ষকরা আর আগের মতো দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন বা শীতকালীন ছুটির সুবিধা পাবেন না। তাদের ছুটি গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের মতো নিয়মবদ্ধ কাঠামোর মধ্যে আসবে এবং বছরে নির্ধারিত ২০ দিনের অর্জিত ছুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
Leave a Reply