বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম চালুর জন্য যে সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, সেটি আগামী এপ্রিল মাসের শুরুতেই পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার কথা রয়েছে। সফটওয়্যার প্রস্তুত হওয়ার পরপরই বদলিযোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের বিস্তারিত তথ্য মাঠপর্যায়ে সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে। এই তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই অনলাইনের মাধ্যমে বদলির জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের মধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
রবিবার (২৯ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে এই বদলি সফটওয়্যার প্রস্তুতের জন্য পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত না-ও হতে পারে, তবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফটওয়্যার প্রস্তুত হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে।
সূত্রটি আরও জানায়, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও তা শেষ করতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগতে পারে। কারণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের যেসব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সেগুলো বেশ জটিল এবং বিস্তৃত। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা কঠিন হবে। এই কারণে এপ্রিল মাসেই বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. ইউনুছ ফারুকী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে টেলিটককে ১ এপ্রিলের মধ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার প্রস্তুত হয়ে গেলে তারা কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, মাঠপর্যায়ের এই তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং এটি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে না। তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হওয়ার পরই বদলির জন্য আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
কবে নাগাদ আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে সময় বলা সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে।
অন্যদিকে, মাউশির আরেকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মে মাসে বদলির আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে যদি মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে, তাহলে আবেদন গ্রহণ শুরুর সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
Leave a Reply