ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না। দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে জানানো হয়, আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৪১ নম্বর বগুড়া-৬ এবং ১৪৫ নম্বর শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন পরিচালনা ও সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা শৈথিল্য না দেখাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর বিধানাবলির প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। উক্ত আইনের ৪ ধারায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের চাকরির বিষয় এবং ৫ ধারায় শৃঙ্খলামূলক বিধান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক বা অন্য যেকোনো ব্যক্তি—যারা নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর ২(ঘ) ধারায় বর্ণিত সংজ্ঞার আওতায় পড়েন—তাদের সবাই নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবেন এবং দায়িত্ব পালনের জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি থাকবেন। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র নাও থাকতে পারে, তবুও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন যদি কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এমনকি বেসরকারি কোনো অফিস বা প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিতভাবে তথ্য সরবরাহ বা নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত বলে বিবেচিত হবেন।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য প্রদর্শন, কিংবা ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই প্রেক্ষাপটে দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান সম্পর্কে সম্পূর্ণ সজাগ থেকে অর্পিত নির্বাচনি দায়িত্ব যথাযথভাবে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করেন।
Leave a Reply