আসন্ন জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠাও। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বিশাল আকারের এই বাজেট আগামী ১১ জুন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে, ফলে এর প্রতি আগ্রহ ও গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
সরকারি বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী, এবারের বাজেটে দারিদ্র্য হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল (পে-স্কেল) বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও উদ্বেগ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন সরকারি কর্মচারীরা। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পায়নি। বরং পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে—এমন খবর প্রকাশ পাওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে এমন একটি জটিল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে সরকারকে বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ধীরে ধীরে জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিরতার রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পে-স্কেল ইস্যুকে কেন্দ্র করে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুব বেশি নেই বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সব দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, আসন্ন বাজেট সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে—তা জানার জন্য এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে আগামী ১১ জুনের বাজেট ঘোষণার দিকে।
Leave a Reply