বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ দ্রুত শেষ করতে টেলিটককে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্ধারিত এই ডেডলাইন আগামী ১ এপ্রিল, এবং এর মধ্যেই সফটওয়্যার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফটওয়্যার প্রস্তুত সম্পন্ন হলেই মাঠ পর্যায় থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) মাউশির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান এবং কর্মচারীদের বদলির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিদ্যমান সফটওয়্যারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আনা হচ্ছে। এই আপডেটের কাজ সম্পন্ন করতে টেলিটককে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে পরবর্তী ধাপে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ১ এপ্রিলের মধ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুত হয়ে গেলে সেদিনই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য আহ্বান করা হবে। তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বদলির জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যার মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীরা সহজেই বদলি হতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এতদিন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য সরাসরি বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা কেবলমাত্র বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ওই প্রক্রিয়ায় আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতা—যেমন একদল শিক্ষকের রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্ব এবং নীতিমালার সংশোধন—ইত্যাদি কারণে এখনো পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।
যদিও পরবর্তীতে সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হয়েছে, তবুও সফটওয়্যার প্রস্তুত না থাকায় কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে ঈদুল ফিতরের আগেই সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সফটওয়্যার প্রস্তুত সম্পন্ন করে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে চায় মাউশি।
Leave a Reply