বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিদ্যমান ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধি করে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই প্রস্তাবটি অনুমোদন করানোর জন্য শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জোরালোভাবে তদবির চালিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি এবং প্রস্তাবটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উৎসব ভাতা বৃদ্ধির পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। এ জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এমনকি গত বুধবার, যা ছিল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস, সেদিনও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী যে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে পারে। যদি কোনো কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি দ্রুত অনুমোদনের জন্য জোরালোভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই উৎসব ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হবে এবং তা কার্যকর করা হবে।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। এই ভাতা বাবদ সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬০ শতাংশ করা হয়, তাহলে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৭১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এছাড়া সূত্র জানায়, শুধু স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়াতে অতিরিক্ত প্রায় ১৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ভাতা বাড়াতে প্রয়োজন হবে আরও প্রায় ৯৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে অনুমোদনের জন্য।
Leave a Reply