বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ—প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার—নিয়োগের জন্য নতুন করে আবেদন গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৯ মার্চ থেকে, যা চলবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম শুরুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ থেকেই আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
এর আগে, গত ১২ মার্চ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারির অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবই আজ অনুমোদন পেয়েছে, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আবারও সক্রিয় করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ১০ মার্চ প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়। এই সংশোধনের অংশ হিসেবে এমপিও নীতিমালার কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও মানসম্মত ও যুগোপযোগী করা যায়।
নতুন নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ৮টি বিষয়ের ওপর ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ—
বাংলা বিষয়ের জন্য ১০ নম্বর, ইংরেজি বিষয়ের জন্য ১০ নম্বর, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের জন্য ১০ নম্বর, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি অংশে ৫ নম্বর এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর ওপর ৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১০ নম্বর এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তরভিত্তিক বিশেষায়িত অংশেও অতিরিক্ত নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন পরীক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ২০ নম্বর রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞানের ওপর ২০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ছাড়াও আল কুরআন, হাদীস, ফিকাহ, আরবি ভাষা এবং ইসলামী শিক্ষার ওপর সম্মিলিতভাবে ২০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থার ওপর বাস্তবসম্মত ধারণা যাচাই করার লক্ষ্যে পরীক্ষার কাঠামো সাজানো হয়েছে।
Leave a Reply